৩.১ সার্বভৌমত্ব শারঈ'আর জন্য
3.1 Sovereignty is for Shar’a
প্রথম মূলনীতির কথা হলো, সার্বভৌমত্ব শারঈ' (শরিয়ত প্রণেতা) এর; এর একটি বাস্তবতা আছে, যা হলো "সার্বভৌমত্ব" শব্দটি। এর এমন প্রমাণ আছে যা নির্দেশ করে যে এটি শারঈ'র, উম্মাহর নয়। এর বাস্তবতা হলো, এই শব্দটি একটি পাশ্চাত্য পরিভাষা, যার অর্থ হলো যে ব্যক্তি ইচ্ছাকে প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং যদি কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছাকে নিজে প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ করত, তবে সে নিজের ওপর সার্বভৌম হতো; কিন্তু যদি তার ইচ্ছা নিজের ছাড়া অন্য কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও প্রয়োগ হতো, তবে সে দাস হতো। এটি উম্মাহর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য: যদি তার ইচ্ছা, অর্থাৎ তার অধিকাংশ ব্যক্তির ইচ্ছা, তার নিজের দ্বারা, তার কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হতো, যাদের হাতে সে স্বেচ্ছায় ও স্বাধীনভাবে সেই ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্পণ করেছে, তবে সে নিজের ওপর সার্বভৌম বলে গণ্য হতো। পক্ষান্তরে যদি অন্যরা তার ইচ্ছাকে তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণ করত, তবে সে দাস বলে গণ্য হতো। এ কারণেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলে: সার্বভৌমত্ব জনগণের, অর্থাৎ জনগণ নিজেদের বিষয় পরিচালনা করে, তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে এবং তাদের ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রদান করে। এটিই সেই সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা, যার ওপর আমরা রায় প্রয়োগ করতে চাই। এই সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে রায় হলো, এটি শারঈ'র, উম্মাহর নয়। ব্যক্তির ইচ্ছা নিজের খেয়ালখুশিমতো নিয়ন্ত্রিত হয় না, বরং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা)-র আদেশ-নিষেধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। একইভাবে উম্মাহও নিজের স্বাধীন ইচ্ছায় পরিচালিত হয়ে যা খুশি তা করে না, বরং আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা)-র আদেশ-নিষেধের অধীন। এ বিষয়ে প্রমাণ আল্লাহর এই বাণীতে প্রতিফলিত হয়েছে: